কতৃপক্ষ কিলাদং এ প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ্ব ঘোষণা করেছে:রোহিঙ্গাদের মৃতদেহ লুকানোর চেষ্টা

মংডু,আরাকান।মংডু উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করেছে যাতে কাউকে
ভিতরে ঢুকতে দেওয়া না হয়,এবং গ্রামের আশেপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বলে জানান মংডূর মং নি।
কতৃপক্ষ মৃতদেহ লুকানোর চেষ্টা করছে,যারা পুলিশের হাতে গুলি খেয়ে মারা গেছেন গত ১৪ জানুয়ারী।পুলিশের
গুলিতে প্রায় ১০ জনের বেশী রোহিঙ্গা মারা যান এবং খারামান নাতালা গ্রামে আর্মি মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী গ্রাম ঘেরাও কওরে ফেলে এবং অধিকাংশ গ্রামবাসী পালিয়ে যায় যখন পুলিশ গুলি বর্ষণ
করে, বৃদ্ধ,নারী ও শিশুরা ছাড়া সবাই পালিয়ে যায়।
পশ্চিম পাশের বাসিন্দারা মনে করে যেহেতু পূর্ব পাশে সমস্যা হয়েছে, পশ্চিম পাশে তার কোন হস্তক্ষেপ
হবে না।
১৫ জানুয়ারী সকালে মংডুর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা-যাদের মধ্যে শহর প্রশাসক উ কি সান, জেলা প্রশাসক উ
অং মিন্ত সো, পুলিশ কর্মকর্তা ও লুন্টিং প্রশাসক ,সংসদ সদস্য মাস্টার জাহাঙ্গীর ও ২ নং ব্লক এর
প্রশাসক ইউসুফ ও আজিম উল্লাহ কিলা দং গ্রামে যান যাতে তারা সার্জেন্ট অং ক থিনকে হস্তান্তর কওরে এবং
তারা কিলা দং পূর্ব পাশে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করতে দেয় নি যেখানে রোহীঙ্গাদের মৃতদেহ পড়ে ছিল।
১৪ তারিখ রাতে, খারামিন এর রাখাইন,লুন্টিন ,পুলিশ ও আর্মি কিলা ধং  প্রবেশ করে ও অধিকাংশ গ্রামবাসীকে
হত্যা করে। একজন স্থানীয় গ্রামবাসীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন ৫০ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন
যাদের মধ্যে নারী,শিশু,ছেলে,মেয়ে ও বৃদ্ধরা ছিলেন।
আরেকজন তরুন গ্রামবাসী যিনি  লুকিয়ে গ্রামে প্রবেশ করেন তিনি জানান, প্রায় ১০০ জনের অধিক মৃতদেহ
পড়ে রয়েছে।
ইউএসডিপি এর সাংসদ সে মং জানান, “এখন পরিস্থিতি অনেক ভয়ানক এবং একশর বেশী নিরাপত্তা বাহিনী
দু চার ইয়ার তান গ্রাম ঘিরে রেখেছে।”
তিনি আরো যোগ করেন,”অনেক মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না এবং অনেকেই ভাবছে তারা মারা গেছেন।”
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়ে তুত ও রাখাইন মুখপাত্র ভিন মং রোহিঙ্গাদের হত্যার কথা চেপে গিয়েছেন এবং তারা বলেন
পুলিশ কেবল ঘিরে রেখেছে কারণ একজন পুলিশ কর্মকর্তা পাওয়া যাচ্ছে না।
দু চিরাদান এর গ্রামবাসীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলছে এটি কতৃপক্ষের একটি পরিকল্পনা
রোহিঙ্গাদের উপর আরো নির্যাতনের।
মংডু হাসপাতাল জানিয়েছে,তারা সার্জেন্টের পোস্ট মর্টেম করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী তা নিয়ে গিয়েছে
কিন্তু কোথায় সে সম্বন্ধে তাদের কোন ধারণা নেয়।
কতৃপক্ষ এটি গোপন রেখেছে এবং কেন গোপন রেখেছে সে সম্বন্ধে কোন ধারণা নেই।
আমরা শকাহত যে অনেক গ্রামবাসী মারা গিয়েছে এবং একজন নিখোঁজ ও আরো অনেক জন সাধারণ মানুষ
বাস্তুহারা হয়েছে,এই ব্যাপারে ইয়াঙ্গুন থেকে আমেরিকা ও ইউকে যৌথ মন্ত্রনালয় বিবৃতি দিয়েছে।
উক্ত বিবৃতিতে দাঙ্গার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং  রাখাইন রাজ্যে অস্থিতিশীলতার ঋনাত্নক প্রভাব সম্পর্কে তাদের
আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, যারা এর সাথে জড়িত তাদের শাস্তি দাবি করেছে। এছাড়া গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা,আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক চিন্তাধারার ব্যাপারে তাদের ভীতির কথা জানান।
কতৃপক্ষ নিরাপত্তাবাহিনীকে আশে পাশের গ্রামে খোঁজ নিতে বলেছে যাতে কিলাই ধং এর গ্রামবাসী কেউ সেখানে আশ্রয়
নিয়ে থাকলে তাকে হস্তান্তর করা হয় না হলে যে আশ্রয় দিবে তাকে ৬ বছরের জেল দিবে।
তাই অন্যান্য প্রতিবেশীরা তাদের আশ্রয় দিতে পারছে এবং তারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে পরিবার নিয়ে।
পূর্ব কিলাই দং গ্রামে প্রায় ৩৮০টি ঘর আছে এবং উক্ত ঘরসমূহে এখন কিছুই নেই,সমস্ত জিনিস–যেমন গরু ছাগল,চাল,
মরিচ,কাপড়, কম্বল রাখাইনরা নিয়ে যায়। আমরা ভবিষ্যতে কি করব ,প্রশ্ন করেন একজন গ্রামবাসী ।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s